জান্নাতে পুরুষরা হূর(সুন্দরী জান্নাতী নারী) স্ত্রী হিসেবে পাবে কিন্তু নারীরা কি পাবে???
আসসালামু আলাইকুম
জান্নাতে পুরুষরা হূর(সুন্দরী জান্নাতী নারী) স্ত্রী হিসেবে পাবে
কিন্তু নারীরা কি পাবে???
জান্নাতে পুরুষদের জন্য তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরুপ থাকবে বিভিন্ন নেয়ামত,
তার মধ্য অন্যতম হলো হুর, জান্নাতী হুর বলতে বোঝানো হয় জান্নাতী সুন্দরী নারী,
যারা অত্যাধিক সুন্দরী হবে এবং কোনো মানুষ বা জ্বীন তাদের আগে কখনো স্পর্শ করেনি।
"হুরেদের ডাগর ডাগর চোখ হবে, এবং জান্নাতি হুর তাদের সোন্দর্য এতই বেশি হবে যে চামড়া ভেদ করে তাদের পায়ের নলার হাড় গুলোও দেখা যাবে।
এবং একেকজন জান্নাতী পুরুষের জন্য একাধিক হুর থাকবে" (মুসলিমঃ৭০৪১-৭০৪৩)
তাহলে পুরুষেরা হুর পেলে নারীরা কি পাবে?
এ প্রশ্নের উত্তর একটি আয়াত থেকে বোঝা যায়। কোরআনের সূরা যুখরুফের ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন
"তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর সানন্দে, তোমাদের স্ত্রী সহ" (যুখরুফঃ৭০)
আবার অন্য এক আয়াতে বর্ণিত আছে,
"তা হচ্ছে বসবাসের বাগান।
তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে (সূরা রাদঃ২৩)
অর্থ্যাৎ এই দুই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে যেসকল নারীরা নেককার তারা তার স্বামীর সাথেই জান্নাতে সানন্দে প্রবেশ করবে,
তারা তাদের স্বামীর সাথেই জান্নাতে থাকবে।
আর স্বামীর সাথে নারীরা জান্নাতে থাকলে দুনিয়াতে ঐ স্বামী দেখতে যেমনই হোক না কেনো জান্নাতে ঐ স্বামীই অধিক সুদর্শন ও শক্তিশালি করে স্ত্রীর নিকট উপস্থিত করা হবে,
এবং স্ত্রীরাও দুনিয়ার চেয়ে অধিক সুন্দরী হয়ে উপস্থিত হবে কেনোনা রাসূল সাঃ বলেছেন
"যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখায়ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। এবং তার যৌবন কক্ষনো শেষ হবে না" (মুসলিমঃ৭০৩৯,৭০৪৮)
"মুখমণ্ডল হবে সেদিন উজ্জ্বল তাদের কর্মের কারণে। তারা থাকবে সুউচ্চ জান্নাতে।’
(সুরা গাশিয়া : আয়াত ৮-১০)
এছাড়াও আরো বর্ণনাতেও পাওয়া যায় জান্নাতীরা কেউ অসুন্দর থাকবেনা, কেউ কালো থাকবেনা এবং কেউ বৃদ্ধ ও থাকবেনা।
এবং নারীরা তাদের পছন্দসই ভাবেই তার স্বামীকে পাবে,
চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যই জান্নাতী নারীদের স্বামীর মাঝে বিদ্যমান থাকবে।
আল্লাহ বলেন,
"এবং তথায় রয়েছে মন যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয় তাই, তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে।”
(সূরা যুখরুফঃ ৭১)
অর্থ্যাৎ নেককার নারীরা তার স্বামীকে অতি উত্তম রুপে জান্নাতে পাবে। এছাড়া কেউ যদি তার স্বামীকে না চায়, যদি অন্য জান্নাতী কোনো পুরুষ চায় তবুও তার সকল দাবি পুরণ করা হবে কেনোনা জান্নাতীদের কোনো দাবিই অপূর্ণ রাখা হবেনা।
আল্লাহ বলেছেন,
"জান্নাতে তোমাদের মন যা চাইবে তাই দেয়া হবে এবং তোমরা সেখানে যা চাইবে তাই পাবে"
(হা-মীম সিজদা- ৩১)
এখন কোনো অবিবাহিত নেককার নারী যদি বিয়ের
আগেই মৃত্যুবরণ করেন এবং সে জান্নাত লাভ করে তবে জান্নাতী পুরুষদের সাথে তার বিবাহ দেয়া হবে, কেনোনা রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন
"জান্নাতের মাঝে কেউ অবিবাহিত থাকবে না"
(মুসলিমঃ৭০৩৯)
অর্থ্যাৎ নারীরা জান্নাতে যা চাইবে তাই পাবে, তার স্বামীকে চাইলেও পাবে এবং জান্নাতী পুরুষ চাইলেও পাবে।
কিন্তু নারীরা জন্মগত ভাবে লাজুক হয়, তাই স্পষ্ট ভাবে কোথাও উল্লেখিত করা হয়নি।
তাই বলে নারীরা জান্নাতী নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হবেনা
আল্লাহ বলেন "
যে লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না"
(নিসাঃ১২৪)
কিন্তু আল্লাহ নারীদের জান্নাতে প্রাপ্তির ব্যাপারে কোনো কিছুই সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা দেননি, অনেক ওলামায়ে কেরাম বলে থাকে নারীরা জন্মগত ভাবে লাজুক হয় এবং নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশি কামনাময়ী হয় তাই পুরুষদের সঠিক পথে আনার জন্য জান্নাতী নারীদের পুরুষ্কারের আশ্বাস দিয়ে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে যেনো তারা জিনায় না জড়ায়।
আর নারীরা পুরুষের তুলনায় কম কামনময়ী। আর নারীরা লাজুক হওয়ায় এগুলো স্পষ্ট হয়নি।
তাছাড়া আল্লাহই ভালো জানেন কেনো তিনি স্পষ্ট আয়াত দেননি কারণ আল্লাহ বলেন,
"‘তিনি (আল্লাহ) যা করেন সে ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই (মানুষকে) প্রশ্ন করা হবে।’ {সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ২৩}
কিন্তু নারী হোক বা পুরুষ কাউকেই আল্লাহ হতাশাগ্রস্থ করবেনা।
আল্লাহর জান্নাত নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রাপ্য কেউ দুঃখিত হবেনা।
রাসূল সাঃ বলেছেন, যে লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে সে স্বাচ্ছন্দে থাকবে কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। তার পরিধেয় বস্ত্র কখনো পুরনো হবে না"
( মুসলিমঃ ৭০৪৮)
তবে সব চেয়ে বড় কথা হলো, আমরা দুনিয়াতে এসকল হিসাব-নিকাশ করা নিয়ে ব্যাস্ত যে আমরা জান্নাতে হূর পাবো নাকি জান্নাতী পুরুষ পাবো, স্বামীকে পাবো নাকি স্ত্রীকে পাবো? দুনিয়াই এই সকল প্রশ্ন নিয়ে আমরা চিন্তা ভাবনা করতেছি,
কিন্তু জান্নাতে যারা প্রবেশ করবে তাদের মাথায় এসকল চিন্তা থাকবে না, হুর বা স্বামী, বা অন্যান্য যা নেয়ামতই থাক না কেনো আল্লাহর সন্তষ্টি লাভ আর আল্লাহর সাথে দেখা হওয়া,
তার সালাম প্রাপ্তি এগুলোর চেয়ে অধিক বড়, প্রশান্তি, ভালো লাগা আর কোনো নেয়ামতেই থাকবে না।
আল্লাহ বলেন ""আল্লাহর সন্তোষ লাভ করে তারা হবে সৌভাগ্যবান আর তা হবে তাদের জন্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য""’(তাওবা-৭২)
"সেদিন আল্লাহকে দেখার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আর কিছুই হবেনা" (মুসলিম)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুক।
আমিন!!


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks