কিছু মানুষ দু‘আ না করেও সব পাচ্ছে আর অনেকে দীর্ঘদিন দু‘আর মধ্যে লেগে থেকেও কিছু পাচ্ছে না। তাদের এই দু‘আ কি তাহলে অর্থহীন?
আল্লাহর কসম! তাঁদের দু‘আ অর্থহীন নয়। দু‘আর প্রতিফল তাঁরা পাবেনই। আমি মিথ্যা সান্ত্বনা দিচ্ছি না। দেখুন হাদিস কী বলে:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন কোনো মুসলিম পাপ ও আত্মীয়তা সম্পর্ক নষ্ট করা ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ্ তার প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তিনটি বিষয়ের একটি দান করেন—তার প্রার্থিত বস্তুই তাকে দিয়ে দেন অথবা তার দু‘আকে (দু‘আর নেকি) তার আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখেন কিংবা দু‘আর পরিমাণ অনুসারে তার অন্য কোনো (অনাগত) বিপদ তিনি দূর করে দেন।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ৫/৫৬৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৩/১৮; সহিহ সনদ]
এই হাদিস অনুসারে যদি আমরা উদাহরণ দিই—ধরুন কেউ দু‘আ করলো একটি সম্মানজনক চাকরির জন্য, কিন্তু সেটা হলো না। আল্লাহ্ তাকে তার এই দু‘আর বিনিময়ে একটি বড় অ্যাকসিডেন্ট থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। হয়ত সেই অ্যাকসিডেন্টের ক্ষতিটা তার চাকরির চেয়েও অনেক বেশি হতো। এবার বলুন, তার দু‘আ কি বৃথা গেছে?
কিংবা ধরুন, কারো নেক আমলের পরিমাণ কম। হাশরের মাঠে তার খারাপ আমলের তুলনায় নেক আমল কিছুই না। আল্লাহ্ তার দু‘আর বিনিময়টা সেই ভয়াবহ হাশরের মাঠে দেওয়ার জন্য রেখে দিলেন। এবার বলুন, এতে লোকটি কি ক্ষতিগ্রস্ত হলো, নাকি লাভবান হলো?
হাদিসে এসেছে, বান্দা যখন দু‘আর বিনিময়ে সঞ্চিত সওয়াবের পরিমাণ দেখবে, তখন কামনা করবে—যদি তার কোনো দু‘আই দুনিয়াতে কবুল না হতো! সবই যদি আখিরাতের জন্য জমা থাকতো! [মুনযিরি, আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ২/৪৭৫-৪৭৬; হাদিসটির সনদে দুর্বলতা আছে; তবুও সমস্যা নেই, কারণ হাদিসের মূল বক্তব্যটি উপরের সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত]
এজন্য ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, ‘‘দু‘আ কবুল হবে কীনা তা নিয়ে আমি দুশ্চিন্তা করি না। বরং আমি চিন্তা করি—দু‘আ করতে পারলাম কীনা। কারণ দু‘আ যখন আমি করতে পারবো, তখন তার উত্তর আসবেই।’’ [ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.)-এর ইক্বতিদ্বাউস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম (২/৭০৬) হতে মূল মর্ম অক্ষুণ্ন রেখে ভাবানুবাদ]
প্রিয় ভাই-বোনেরা, দু‘আ করতে অলসতা করবেন না। দু‘আর ফল লাভে তাড়াহুড়া করবেন না। দু‘আর ফল লাভে তাড়াহুড়া করাটা দু‘আ কবুল না হওয়ার কারণ। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ আল্লাহকে ডাকলে, তার ডাকে সাড়া দেওয়া হবে, যতক্ষণ না সে অধৈর্য হয়ে বলে ওঠে—‘আল্লাহকে তো ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়া তো পাওয়া গেলো না।’ [বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৪০]
সুতরাং আশাবাদী হোন। আল্লাহকে ডাকতে থাকুন। দু‘আর মধ্যে লেগে থাকুন। আপনার একটি ডাকও বৃথা যাবে না। হয়ত সাথে সাথেই কবুল হবে অথবা আখিরাতে এর বিনিময় পাবেন কিংবা দু‘আর বিনিময়ে বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ্ বাঁচিয়ে দিবেন। কোনো লস নেই; সবই লাভ—যদিও তা সর্বদা দৃশ্যমান নয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ইবাদাতের মাধ্যমে বেশি বেশি করার তাওফীক দিন।
ওমা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ,
আল্লাহুম্মা আমিন।❤️

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন