বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে মতভিন্নতার অবকাশ


 হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে মতভিন্নতার অবকাশ





 হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে মতভিন্নতার অবকাশ

************************************
খন্দকের যুদ্ধের সময় বনু কুরাইযা নামক ইহুদি গোষ্ঠী চুক্তি ভঙ্গের মাধ্যমে মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। মদিনার মুসলমান চরম সংকটে পড়ে যান।
খন্দকের যুদ্ধের পর বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নবী মুহাম্মদ সা: সাহাবীদের বললেন :"তোমরা বনু কুরাইযার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হও এবং বনু কুরাইযা পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বে কেউ যেন আসরের নামাজ না পড়ে। "
রাস্তায় আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে একদল সাহাবী আসরের নামাজ পড়ে ফেলেন এই যুক্তি দেখিয়ে যে আসলে আমরা যেন বিলম্ব না করে বনু কুরাইযা পৌঁছুতে পারি এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য।
তাঁরা রাসূলের (সাঃ) বাণীর হিকমত, তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু আর একদল সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর আক্ষরিক অর্থ কে সামনে রেখে তাঁরা বনু কুরাইযাতে গিয়েই আসরের নামাজ পড়েছিলেন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয় পক্ষের আমলকেই সঠিক মেনে ছিলেন এবং কোনো পক্ষকেই ভর্ৎসনা করেন নি।
ঘটনাটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে।

যাকাতুল ফিতরের হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

সাহাবা, তাবেঈন , তাবা তাবেঈন, মুজতাহিদ ইমামগণ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ওলামায়ে কেরাম দুই ভাগে বিভক্ত যাকাতুল ফিতর মূল্য বা মুদ্রা দ্বারা আদায় করার ব্যাপারে।
একদল হাদীসের আক্ষরিক অর্থ কে সামনে রেখেছেন।
আর একদল হাদীসের ভাবার্থ, হিকমত ও তাৎপর্য কে সামনে রেখেছেন।
বিষয়টি হক ও বাতিলের নয়। বিষয়টি হাদীস অস্বীকার করনের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
বিষয়টি জায়েয ও উত্তমের।
হাদীসে বর্ণিত খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া উত্তম কাজ।
চাল দিয়ে ফিতরা দেওয়া যেমন হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা সাব্যস্ত। ( চালের উল্লেখ হাদীসে নেই)
ঠিক মুল্য দিয়ে ফিতরা দেওয়াও হাদীসের ব্যাখ্যা দ্বারা সাব্যস্ত।





কোন মন্তব্য নেই: