সংসারে অশান্তি আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে—বিয়ের আগে এই হাদীসের উপর আমল না করা...। রাসুল সা. বিয়ের ব্যাপারে আমাদেরকে পূর্বেই একটি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন—যা দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার একটি চাবিকাঠি। অথচ আজ, আমরা এই চাবিকাঠি ব্যবহার করছি না। অনেকেই এই ব্যাপারে জানেই না; আবার অনেকে জেনেও আমল করে না।
হাদিসটি হচ্ছে এই...
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عِمْرَانَ الْجَعْفَرِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَخَيَّرُوا لِنُطَفِكُمْ وَانْكِحُوا الْأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম মহিলা গ্রহণ করো এবং সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখো। [১৯৬৮] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৯৬৮)
রাসুল সা. বিবাহ করতে এবং বিবাহ দিতে কুফু (সমতা)-র দিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন। কিন্তু আজ আমরা বিয়ের আগে এটা মাথায় রাখি না। আমরা সবাই চাই—আমার স্ত্রী যেন সুন্দর হয়, আমার শশুর বাড়ী যেন উচ্চ বংশীয় হয়। এদিকে আমি সুদর্শন নই, আবার বংশও উন্নত মানের নয়। অথচ আমি চাই, আমার স্ট্যান্ডার্ড কাউকে। ঠিক তদ্রুপ মেয়েদের ক্ষেত্রেও, একজন অসুন্দর মেয়েও আবদার করে বসে—সুন্দর ছেলে না হলে বিয়ে করবো না, ছেলের টাকা পয়সা না থাকলে বিয়ে করবো না। অথচ, এই মেয়ে তার সম পর্যায়ের নয়।
মোটকথা, আজকাল আমরা, আমাদের চেয়ে স্ট্যান্ডার্ড কাউকে বিয়ের জন্য মনোনয়ন করি। অর্থের দিক দিয়ে, সৌন্দর্যের দিক দিয়ে, বংশের দিক দিয়ে, সব সময় নিজের চে' উঁচু মানের কাউকে খুঁজি। এবং সমতা বজায় না রেখে বিয়েও সম্পাদন করে ফেলি। ফলে, বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়ে যায়।
১• সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সমতা:
সুন্দর-অসুন্দর দুজন ছেলে-মেয়ে যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, একই ছাদের নিচে বসবাস করে, তখন একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারে না। যে সুন্দর সে সব সময় তার সৌন্দর্যের বড়াই করে চলে। আর যে অসুন্দর, সে তার কাছে অবহেলার পাত্রে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে যে সুন্দর সে তার অসুন্দর সঙ্গীর উপর সন্তুষ্ট না থেকে অন্যত্র পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অশান্তি।
২• বয়সের দিক দিয়ে সমতা:
আজকাল বয়সের দিক দিয়েও সমতা বজায় রাখা হয় না। অনেক চাকরিজীবী ভাইয়েরা, ৩৫ বছরের পর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। আর বিয়ে করেন, ১৮ বছরের যুবতী। আর কেউ কেউ তো ৪০ পার করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এরকম অনেক দম্পতি রয়েছে যাদের মধ্যে বয়সের তারতম্য দ্বিগুণ। একজন যুবতী মেয়ে কখনো তার দ্বিগুণ বয়স্ক ব্যক্তি কে সহ্য করতে পারে না। শুধু তাই নয়—শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানান সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: একজন যুবকের যতটুকু যৌবন থাকে, একজন ৪০ বছর উর্ধ্বের ব্যক্তির, সেটা থাকে না। আরেকটি বিষয়—ঐ ব্যক্তি ১০/১৫ বছর পর যৌন মিলনে অক্ষম হয়ে পড়ে। অপরদিকে তার সঙ্গিনীর বয়স হয় তখন ৩০ বছর। তার ভরা যৌবন। ফলে তখন ঐ মেয়ে তার বৃদ্ধ স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অশান্তি।
৩• বংশের দিক দিয়ে সমতা:
বিয়ের ক্ষেত্রে এটাও দেখা খুবই জরুরী। নয়তো বিয়ের পর একজন আরেকজনকে বংশ নিয়ে খোটা দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করে না। ফলে, সেখান থেকে অশান্তি শুরু হয়ে যায়।
৪• অর্থের দিক দিয়ে সমতা:
এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবিত্ত হয়ে বিত্তশালী ঘরে বিয়ে করলে, অনেক সময় তার শখ আহ্লাদ পূরণ করতে সে অক্ষম হয়ে যায়। তখন তাকে শুনতে হয়, নানান কথা। শুধু তাই নয়—বাড়ির বউ তখন তার ওপর কর্তৃত্ব চালাতে শুরু করে ।
৫• দীনদারীত্বে সমতা:
এটাও খুব জরুরী। যাচাই-বাছাই না করে, সুদখোর ঘুষখোর -এর কাছে বিয়ে দিলে, মেয়েটার জীবন একদম তেনা তেনা হয়ে যায়। সমাজে এরকম অনেক ঘটনা শোনা যায়—নামাজ পড়লে, কোরআন তেলাওয়াত করলেও নাকি, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কত কথা বলে! শুধু তাই নয়—যে মেয়েটা সব সময় হালাল খাবার খেয়ে এসেছে, তাকে তখন হারাম উপার্জনের খাবার খেতে হয়।
মোট কথা—বিয়ের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রেখে বিয়ে সম্পাদন করা দাম্পত্য জীবনের সুখের চাবিকাঠি। এজন্য আমাদের সবার বিয়ে করার পূর্বে কুফু বরাবর রেখে বিয়ে করা উচিত। আর তাছাড়া এটা রাসুল সা. -এর নির্দেশ। যেখানে রাসুল সা. বিয়ের ক্ষেত্রে এই দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেখানে এটার উপর আমল করা খুবই জরুরী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন