শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৩

বিদয়াতঃ

 





বিদয়াতঃ

রাসূল সঃ ও খোলাফায়ে রাসেদার যুগে যে কাজ যেভাবে করা হয়েছে, তা সেভাবে নাকরে নতুন কোন ভাবে করা বিদয়াত।★হাদীসে এসেছে,

عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّممَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِى فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ
ইরবায বিন সারিয়াহ রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে আমার পরে জীবিত থাকবে, সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ (পথ ও আদর্শ) এবং আমার পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাহ অবলম্বন করো। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো, দাঁতে কামড়ে ধরো। আর দ্বীনে নবরচিত কর্ম থেকে সাবধান থেকো। কারণ প্রত্যেক নবরচিত কর্মই হল ‘বিদআত’। আর প্রত্যেক বিদআতই হল ভ্রষ্টতা।”
[আবূ দাঊদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৮১৫,appথেকে]
যেমনঃ
★★(ক) সেই যুগে, যাকাত রাষ্ট্রীয় ভাবে আদায় করা হতো, তা না করে নতুন নিয়মে ব্যক্তিগত ভাবে আদায় করা বিদয়াত। ১.(♦)
★★(খ)সেই যুগে, সমাজের ইমামের পেছনে নামাজ পড়া হতো,তা না পড়ে, নতুন নিয়মে ভাড়া করা লোকের পেছনে নামাজ পড়া বিদয়াত।২.(♦)
★★(গ) সেই যুগে, হজ্বের সময় মুসলিম জাহানের নেতা আরাফার ময়দানে বক্তৃতা করতো, বর্তমানে OIC এর মহাসচিব মুসলিম জাহানের নেতা। নতুন নিয়মে তিনি আরাফাতের ময়দানে বক্তৃতা নাদেয়া বা তিনি ছাড়া অন্য কেহ বক্তৃতা দেয়া বিদয়াত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিকটা জানা, বুঝা ও মেনে চলার তৌফিক দান করুন- আমিন।
বিস্তারিতঃ
১.(♦)ব্যক্তিগত ভাবে যা দান করা হয়, তা সবই সদাকাহ, যাকাত নয়।
★সেই সময়, যাকাত বলা হতোঃ"ধনীদের সম্পদের একটা নির্ধারিত অংশ বছর শেষে রাষ্ট্রীয় ভাবে আদায় করে বাইতুল মালে জমা করাকে যাকাত বলে।"
আর এখন যাকাত বলা হয়ঃ"ধনীদের সম্পদের একটা নির্ধারিত অংশ বছর শেষে দরিদ্রদের দান করাকে যাকাত বলে।"
এখনকার পদ্ধতিতে আপনি যাকাত দিতে পারেন, কিন্তু নবীর তরিকায় আদায় হল না। আর নবীর তরিকায় আদায় নাকরা বিদয়াত।
♣যতদিন সরকারি ভাবে যাকাত আদায় না হচ্ছেঃ
★১।ততদিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ দান করতে থাকবেন ।আর একথা আছে সূরা বাকারা ২১৯নং আয়াতে।
★২। সরকারকে জানাতে ও বুঝাতে হবে, যাকাত রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস। আর এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় করা সম্ভব।
★৩।এখনকার পদ্ধতিতে আপনি যাকাত দিতে পারেন, কিন্তু নবীর তরিকায় আদায় হল না।
এটা জরুরী অবস্থায় আমল করলেও এটা সঠিক পদ্ধতি নয়, এটা মনে রাখতে হবে এবং সঠিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
২.(♦)মসজিদে ইমামতি একটি রাজনৈতিক পদ। যিনি সমাজের ইমাম হবেন, তিনি নামাজেরও ইমাম হবেন। তাঁর বেতন হবে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। কোন জেলায় একটা মাত্র জুমা মসজিদ থাকবে আর ইমামতি করবেন ঐ জেলার রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি।
এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধান।এর মধ্যে কোন ইন্জিনিয়ারিং করা যাবে না।
আর এখন যা করা হচ্ছে, তা মানব রচিত আইনে করা হচ্ছে। এখনতো প্রতিটি থানাতেই কয়েক শত জুমা মসজিদ দেখা যায়। আর ইমাম সাহেবের কোন রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তিনি হলেন মসজিদ কমিটির গোলাম।
এই নিয়ম থেকে আমাদের বের হতে হবে এবং যে কোন উপায়ে হোক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানের দিকে ফিরে আসতে হবে। তবেই প্রকৃত ইসলামের অনুসরণ করা হবে আর সমাজে শান্তি নেমে আসবে রাসূল সঃ এর যুগের মত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন -আমিন।
তথ্যসূত্রঃ হাদীস শরীফ ও ইসলামের ইতিহাস।










কোন মন্তব্য নেই: