বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।”

 






হয়তো যে কারণে আপনি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, বিয়ে বারাকাহ, সেটি হলো আপনি নিজেই বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারেননি। কারণ, আপনি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন তার গায়ের সৌন্দর্য, একাডেমিক সার্টিফিকেট ও বংশ-মর্যাদা বা বাপের সম্পত্তি দেখে—দ্বীন দেখে না। অথবা আপনি কারও স্ত্রী হলে, আপনাকে আপনার বাবা আপনার স্বামীর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন তার ‘ভালো’ চাকরি ও ভবিষ্যতে বড়লোক হওয়ার প্রতিভা দেখে। ছেলের ঈমান-আমল ঠিক আছে কিনা, ঈমান ভঙ্গের কোনো কাজের সাথে জড়িত কিনা, নামায-রোজা সহিহ-শুদ্ধ হয় কিনা, হজে যাওয়ার প্লান আছে কিনা, ছেলের উপার্জন দেশীয় আইনে বৈধ হলেও শরিয়াহ হালাল করেছে কিনা—এসব কোনো কিছুই যাচাই করার কোনো প্রয়োজনই বোধ করেননি আপনার (মরহুম) বাবা, এমনকি স্বয়ং আপনিও! অথবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হক আদায় করেনি বা একে অপরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বা যুলুম করেছে বা তারা হারামের সাথে আপোষ করে নিয়েছে। আবার এমনটাও হতে পারে যে, আপনি দ্বীনি হলেও আপনার জীবনসঙ্গী দ্বীনদার না বা সে হারাম উপার্জনে জড়িত—যার কারণে আপনার বিবাহিত জীবনটা তেজপাতা হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে উপার্জন হারাম হলে বরকত ও বিবেকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এখন তো অধিকাংশের উপার্জনই হারাম, কারণ তাতে সুদ মিশে আছে! আর বউ ফেমিনিস্ট হলে তো...


◈ “এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবে না তারা কীভাবে সম্পদ/অর্থ অর্জন করল—হালাল উপায়ে না হারাম উপায়ে।” [অর্থাৎ তাদের উপার্জন হালাল না হারাম, এ-ব্যাপারে তারা মাথা ঘামাবে না। এটি কিয়ামতের একটি নিদর্শন।] 

» [Bukhari 2083]


যাইহোক, মূল কথা একটাই—দ্বীনকে প্রাধান্য না দিয়ে দুনিয়ার বিষয়াবলীকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করার কারণে আপনি বিয়ের বরকতটা অনুভব করতে পারেননি। বৈবাহিক জীবনটা উপভোগ করতে পারেননি। এ কারণে বিয়েটা আপনার কাছে বরকত তো মনেই হয় না, উল্টো ঝামেলা ও অপচয় মনে হয়! আর এজন্যই আপনি আপনার সন্তানের বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও ১০-১৫ বছর পর্যন্ত বা তারও বেশি ডিলে করাচ্ছেন! মানে আপনার বিবাহিত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার ঝালটা যেন আপনি আপনার নিরীহ ছেলে-মেয়ের ওপর মেটাচ্ছেন! আর ওরাও বেচারা অসহায় হয়ে ধুকে ধুকে যতটুকু পারছে আপনার এ মানসিক অত্যাচার নিরবে সহ্য করছে। আর তাদের অধিকাংশ তো স্কুল-কলেজ ও স্যারদের ব্যাচে পড়ার সুবাদে পার্ট টাইম বিএফ/জিএফ বা তথাকথিত ভাইয়া/আপুদের দ্বারা বিয়ের স্বাদটা যিনা করে যতটুকু পারছে মিটিয়ে নিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! আর আপনি মনে করছেন আপনার সন্তান মন দিয়ে পড়ছে জীবনে বড় হওয়ার জন্য। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন!


কিন্তু আপনি ও আপনার লাইফ পার্টনার দুজনই যদি সহিহভাবে দ্বীন প্রাক্টিসিং হয়ে থাকেন, তবে আপনাদেরকে আর বুঝিয়ে বলার কোনো প্রয়োজনই নেই ইসলামে দ্রুত বা যথাসময়ে বিয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কী। অথবা আপনি যদি কোনো দ্বীনি দম্পতির সাক্ষাৎকার নিন, তারাই আপনার সামনে সাক্ষ্য দেবে যে, বিয়ে কত বড় নিয়ামত ও আল্লাহর নিদর্শন! আল্লাহু আকবার! তাদের হাবে-ভাবে ও চোখে-মুখে আপনি তৃপ্তির ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাবেন। তারা তাদের দাম্পত্য জীবনে যে বরকত ও জান্নাতি সুখ উপভোগ করে, তা সম্পর্কে অন্যদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই! আর তারাও চায় তাদের সন্তানদেরকে বালেগ হলে দ্রুত বিয়ে করিয়ে দিতে। কেননা কোনো বাবা-মা কি কখনো চাইবে নিজ সন্তানকে ধাক্কা দিয়ে ফিতনায় ফেলতে বা আগুনে নিক্ষেপ করতে? নিজ সন্তানের জীবন কঠিন করে দিতে? আল্লাহর বিশেষ রহমত, বরকত ও দুনিয়াতে জান্নাতি প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত করতে? প্রশ্নই আসে না! 


*রাসূল (ﷺ) যখন স্পষ্ট বলেই দিয়েছেন যে, দুনিয়ায় সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত এবং সর্বোচ্চ উপকারী ও প্রশান্তিদায়ক জিনিস হলো দ্বীনি ও অনুগত স্ত্রী, তখন যে-কোনো বিজ্ঞ মুসলিমের এরকম সৌভাগ্য অর্জনের জন্য মেহনত করা উচিত এবং সন্তানদেরকে বাবা-মার এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করা উচিত!*


◈ “দুনিয়ায় সর্বোচ্চ উপকারি ও উপভোগের জিনিস হলো নেককার স্ত্রী।”

» [Muslim 715 k]


আপনি মুসলিম অভিভাবক হয়ে থাকলে নিম্নে উল্লেখিত আল্লাহর আয়াতদ্বয় ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিসটি ভালোমতো আপনার মন ও মগজে গেঁথে নিন এবং মুনাফিকি ও জাহেলিয়াত থেকে আল্লাহর নিকট পানা চান এবং তাঁর নিকট হিদায়াত চান–


◈ “তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও দয়া-মায়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা চিন্তা করে।” 

» [30:21]


◈ “তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে করিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ (ﷻ) নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ (ﷻ) প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।”

» [24:32]


◈ “বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।”

» [Bukhari 5066]


❃ ‘আগে প্রতিষ্ঠা, না আগে বিয়ে?’

[প্রকাশিতব্য বই, ইন শা আল্লাহ]

🌺🍃🌺 🍃 🌺 🍃 🌺 🍃 🌺🌿

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই: