আদর করে স্ত্রীকে ছোট ও প্রিয় নামে ডাকা সুন্নাহ!
আজকাল কিছু মানুষকে দেখা যায়, মোবাইলে তারা স্ত্রীর নাম্বার সেইভ করে বিভিন্ন কুৎসিত নামে। কেউ নাম দেয়, 'আপদ', কেউ দেয় 'বালাই', কেউ দেয় 'জিন্দেগির ভুল' আবার কেউ এক ধাপ এগিয়ে নাম দেয় শয়তানা!
অন্যদিকে কিছু মানুষ আছে যারা স্ত্রীর নাম সেইভ করে সুন্দর সুন্দর নামে। যেমন: প্রিয়তমা, জান, জীবনসাথি, অমুকের মা ইত্যাদি। (প্রথমটা হলো খুবি জঘন্যতম কাজ আর দ্বিতীয়টি হলো, প্রিয়তম রাসুল ﷺ এর সুন্নাহ)
আয়িশা (রা.) বলেন, 'রাসুল ﷺ একদিন আমাকে বললেন, 'হে আয়িশা, জিবরাইল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন'। তখন আয়িশা (রা.) বললেন, 'তাঁর ওপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক'। [সহীহ বুখারি হা/৩২১৭; সহীহ মুসলিম হা/২৪৪৭]
রাসুল ﷺ আয়িশা (রা.)-কে হুমাইরা নামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা.) বলেন, 'কিছু হাবশি বালক মসজিদে খেলাধুলা করছিল। নবিজি ﷺ আমাকে ডেকে বললেন, 'হুমাইরা, তুমি কি তাদের খেলাধুলা দেখতে চাও?' আমি উত্তর দিলাম, 'হ্যাঁ'। [আস-সুনানুল কুবরা, ৮৯৫১]
কাজি ইয়াজ বলেন, 'আদর-সোহাগ ও ভালোবাসা প্রকাশে তিনি হুমাইরা নামে ডেকেছিলেন তাকে'। [মাশারিকুল আনওয়ার ১/৭০২]
রাসুল ﷺ আয়িশা (রা.)-কে উম্মে আব্দুল্লাহ উপনামেও ডাকতেন। আয়িশা (রা.) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন জুবাইরের জন্মের পর তাকে নিয়ে আমি নবিজি ﷺ এর কাছে আসলাম। আব্দুল্লাহর মুখের ভিতর তিনি নিজের লালা দিলেন। আব্দুল্লাহর পেটে ঢোকা দুনিয়ায় প্রথম জিনিস ছিলো রাসুল ﷺ এর মুখের লালা। তিনি বললেন, 'এ হলো আব্দুল্লাহ। আর তুমি উম্মে আব্দুল্লাহ'। এরপর থেকে আমাকে এ উপনামেই ডাকা হয়। যদিও কখনো আমার সন্তান হয়নি।
[ইবনে হিব্বান হা/৭১১৭]
সংগৃহীত
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সংসার জীবন কে সুখময় করুক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন